বুধবার, ০৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, ১১:১৩ অপরাহ্ন

প্রতিনিধি নিয়োগ-
ঢাকা সহ সারাদেশের প্রতিটি জেলা, উপজেলা, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে সংবাদদাতা নিয়োগ করা হবে। আগ্রহী প্রার্থীরা dailyalochitosokal@gmail.com এ সিভি প্রেরণ করার জন্য অনুরোধ করছি।
আওয়ামীলীগের মনোনয়ন ফরম কিনলেন যুবদলের সাবেক সভাপতি রফিকুল ইসলাম 

আওয়ামীলীগের মনোনয়ন ফরম কিনলেন যুবদলের সাবেক সভাপতি রফিকুল ইসলাম 

নিজস্ব প্রতিবেদক- জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার সাতপোয়া ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সভাপতি রফিকুল ইসলাম আওয়ামী লীগে যোগদানের পর এবার ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে নৌকা প্রতীকের জন্য দৌড়ঝাপ শুরু করেছেন। ৫ এপ্রিল জামালপুর জেলা আওয়ামীলীগের কার্যালয় থেকে সাতপোয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন কেনায় স্থানীয় উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের আওয়ামী লীগের ত্যাগী নেতাকর্মীদের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। জানা গেছে, রফিকুল ইসলাম ১৯৯৮ সালে উপজেলার সাতপোয়া ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতির পদ পায়। ২০০১ সাল তেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত তার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের অনেক নেতাকর্মীদের ওপর হামলা হয়। ২০০৫ সালে ইসলামী সভা বন্ধ করে দেয়। ২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী ফরিদুল কবীর তালুকদার শামীমকে নির্বাচিত করার জন্য চর ছাতারিয়া কেন্দ্র দখল করে বেলা ১২টার মধ্যে সিল মেরে ধানের শীষ প্রতীকের ভোট নিশ্চিত করেন তিনি। পরে চর শিশুয়া কেন্দ্র দখল করে সিল মেরে ভোট নেয়ার চেষ্টা করলে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা বাধা দিলে তাদের ওপর হামলা হয়। পরবর্তীতে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী, স্থানীয় এমপি তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. মুরাদ হাসান চর শিশুয়া কেন্দ্রে পৌঁছালে যুবদল নেতা রফিকুল ইসলামের সহযোগিতায় তার ওপর হামলাও চালানো হয়। এলাকাবাসী ও আওয়ামী লীগ সমর্থকদের অভিযোগ, চর ছাতারিয়া গ্রামের শুক্কুর মন্ডলের ছেলে রফিকুল ইসলাম দীর্ঘদিন বিএনপি ক্ষমতা থাকায় তার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের অনেক নেতাকর্মীর ওপর হামলা করা হয়। ২০১৫ সালে ফুলের মালা দিয়ে আবারো আওয়ামী লীগে যোগদান করেন। যখন যে দল ক্ষমতায় আসে সেই দলে যোগ দিয়ে সুবিধা করে থাকে। নাম না প্রকাশে অনেকেই অভিযোগ করে  জানান, রফিকুল ইসলাম ছিলেন স্থানীয় ক্যাডার ও যুবদলনেতা। সাত পোয়া ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলাল তরফদারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তার সময়ে দুজন সাথে বিএনপির হয়ে স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে আন্দোলন সংগ্রাম করেছেন বলে তিনি স্বীকার করেন। আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশকারী রফিকুল ইসলামকে নৌকা প্রতীকে মনোনয়ন দেওয়ার গুঞ্জনে ইতিমধ্যে সাতপোয়াসহ সারা উপজেলায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তাকে মনোয়ন না দিতে জেলা ও উপজেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষনেতাদের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। স্থানীয় সাতপোয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি এডভোকেট আব্দুর রউফ গফুর বলেন, এই ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের প্রার্থী অনেকেই রয়েছে। রফিকুল ইসলাম সাবেক ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন। পরবর্তীতে বিএনপিতে যোগ দিযে ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি হন। এরপর তিনি ২০১৫ সালে আওয়ামী লীগে যোগ দেন। বর্তমানে তিনি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন বলেও জানান তিনি। এদিকে নৌকা প্রতীকে মনোনয়ন প্রত্যাশী সাবেক যুবদলনেতা রফিকুলের সাথে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি। এ প্রসঙ্গে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. ছানোয়ার হোসেন বাদশা বলেন, আওয়ামী লীগে কার কি অবস্থা, তাদের অতীত কেমন সব খোঁজ নিয়েই আওয়ামী লীগ মনোনয়ন দেয়।মনোনয়ন সবাই চাইতে পারে। কিন্তু আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যাচাই-বাছাই করে যাকে মনোনয়ন দিয়ে নৌকা প্রতীক দিবেন, তাকে বিজয়ী করাই আমাদের পবিত্র দায়িত্ব। জামালপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আইনজীবী মুহাম্মদ বাকী বিল্লাহ বলেন, অন্য দল থেকে যারা আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছে তাদেরকে যোগ দানের তারিখ হতে তিন বছর অপেক্ষা করতে হবে। তবে যাচাই বাছাই করে উপযুক্ত, দলের কর্মীদের কাছে গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে এমন প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়ার জন্য জেলা আওয়ামী লীগ নাম পাঠাবে কেন্দ্রে। কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের নির্বাচনী মনোনয়ন বোর্ড এগুলো সিদ্ধান্ত জানাবেন।

শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি
Design & Developed BY SheraWeb.Com