বুধবার, ০১ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, ০২:৪০ অপরাহ্ন

প্রতিনিধি নিয়োগ-
ঢাকা সহ সারাদেশের প্রতিটি জেলা, উপজেলা, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে সংবাদদাতা নিয়োগ করা হবে। আগ্রহী প্রার্থীরা dailyalochitosokal@gmail.com এ সিভি প্রেরণ করার জন্য অনুরোধ করছি।
শিরোনাম:
উপমা ফারিসার বিরুদ্ধে ঘুষ ও দুর্নীতির অভিযোগ, আবেদন দিয়েও তথ্য পায়নি সাংবাদিকরা

উপমা ফারিসার বিরুদ্ধে ঘুষ ও দুর্নীতির অভিযোগ, আবেদন দিয়েও তথ্য পায়নি সাংবাদিকরা

জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) উপমা ফারিসার বিরুদ্ধে ঘুষ ও দুর্নীতির অভিযোগে তাঁর অপসারণ দাবি করেছেন আওয়ামী লীগ নেতারা। বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসের এক আলোচনা সভায় নেতারা তাঁর অপসারণ চেয়েছেন। এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও বুধবার (১১ জানুয়ারি) থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে উপজেলাসহ জেলাজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, উপমা ফারিসা উপজেলা নির্বাহী অফিসার হিসেবে ২০২১ সালের ২৯ আগস্ট সরিষাবাড়ীতে যোগদান করেন। তিনি কার্যভার পালনকালীন গতবছরের ১৬ এপ্রিল (রবিবার) সকাল ৭টার দিকে ইউএনও’র কার্যালয়ে রহস্যজনকভাবে অগ্নিকাণ্ড ঘটে। আগুনে তাঁর কক্ষের গুরুত্বপূর্ণ সকল নথিপত্র পুড়ে ছাই হয়ে গেলেও তদন্ত কমিটির মাধ্যমে ঘটনাটি বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট হিসেবে বলা হয়।

এদিকে সহকারী কমিশনার-ভূমির (এসিল্যান্ড) পদটি গতবছরের ১৬ আগস্ট শূন্য হওয়ার পর ইউএনও উপমা ফারিসা অতিরিক্ত এসিল্যান্ডের দায়িত্ব পান। তার দায়িত্বকালীন ১৮ ডিসেম্বর রাতে উপজেলা ভূমি অফিস ও পার্শ্ববর্তী কামরাবাদ ইউনিয়ন ভূমি অফিসে চুরি হয়। উপজেলা ভূমি অফিসের দুটি জানালার গ্রিল ও একটি আলমারির তালা এবং ইউনিয়ন ভূমি অফিসের কলাপসিবল গেট, একটি দরজা ও তিনটি আলমারির তালা ভেঙে গুরুত্বপূর্ণ ফাইলপত্র তছনছ ও চুরি করে নেয় চোরচক্র। এরপর ২৯ ডিসেম্বর রাতে ভূমি অফিসে পুনরায় চোর প্রবেশের চেষ্টা চালায়। ঘটনাটি প্রথমে ধামাচাপা দেওয়া চেষ্টার পর ফাঁস হলেও রহস্যজনক কারণে এখনো ঘটনার ক্লু উদ্ঘাটন হয়নি। অগ্নিকাণ্ড ও চুরির ঘটনায় জনমনে নানা প্রশ্ন ও মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়।

এদিকে উপমা ফারিসা সরিষাবাড়ীতে যোগদানের পর সরকারি দপ্তরের কোনো তথ্য মেলে না আবেদন করেও। অভিযোগ রয়েছে, তথ্য অধিকার আইনানুযায়ী নির্ধারিত ফরমে আবেদন করলেও বিভিন্ন প্রকল্প হরিলুটের ঘটনা ধামাচাপা দিতেই কোনো তথ্য প্রদান করা হয় না। কেউ তথ্যের জন্য আবেদন করলে সে খবর পৌঁছে যায় প্রকল্প সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক নেতার কানে, এতে হয়রানির শিকার হন খোদ গণমাধ্যমকর্মীরা।

স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী মাসুদুর রহমান অভিযোগ করেন, ২০১৮-১৯ থেকে চলতি অর্থবছর পর্যন্ত বিশেষ ও সাধারণ বরাদ্দের বিভিন্ন তথ্য চেয়ে অন্তত ইউএনও’র কাছে ৬টি আবেদন করি। কোনো তথ্য না পেলেও উল্টো হয়রানির শিকার হওয়ায় ডিসির কাছে একটি আবেদনের আপিল করেছি।তথ্য নিয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, এটি উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসের তথ্য। আমার দপ্তরের কোনো তথ্য চাইলে আমি দিতে বাধ্য।

এদিকে ইউএনও’র বিরুদ্ধে ঘুষ ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছেন রাজনৈতিক নেতারা। বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে উপজেলা আওয়ামী লীগের আলোচনা সভায় তাঁর অপসারণ দাবি করা হয়।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহসভাপতি অধ্যক্ষ মোঃ আবদুর রশীদ অভিযোগ করেন, সরিষাবাড়ীতে বর্তমানে যে উপজেলা নির্বাহী অফিসার রয়েছেন, তিনি মারাত্মক ঘুষখোর ও দুর্নীতিবাজ, তাঁর কারণে ইউপি চেয়ারম্যানরা প্রশ্নের সম্মুখীন হচ্ছেন। ইউএনও’র বিভিন্ন অপকর্মের জন্য সামনের নির্বাচনে নৌকার ভোট কমে যাবে বলে তাঁর অপসারণ দাবি করেন।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার উপমা ফারিসার বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, অভিযোগের বিষয়টি আমার জানা নেই। তাই এ ব্যাপারে কিছু বলতে চাই না।

শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি
Design & Developed BY SheraWeb.Com