বৃহস্পতিবার, ০৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, ১২:২৫ অপরাহ্ন

প্রতিনিধি নিয়োগ-
ঢাকা সহ সারাদেশের প্রতিটি জেলা, উপজেলা, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে সংবাদদাতা নিয়োগ করা হবে। আগ্রহী প্রার্থীরা dailyalochitosokal@gmail.com এ সিভি প্রেরণ করার জন্য অনুরোধ করছি।
পরিকল্পনার অভাবে জলে যেতে বসেছে সরকারের কোটি কোটি টাকা

পরিকল্পনার অভাবে জলে যেতে বসেছে সরকারের কোটি কোটি টাকা

মাসুদুর রহমান – জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার আওনা ইউনিয়নের দুর্গম ঘুইঞ্চার চর আশ্রয়ণ প্রকল্প প্রভাবশালীচক্রের পছন্দমতো জায়গা নির্বাচন ও সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার অভাবে জলে যেতে বসেছে সরকারের কোটি কোটি টাকা। একদিকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছে সরকারের উন্নয়ন ও ক্ষুণ্ন করা হয়েছে প্রকল্পের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য। ফলে প্রকল্পটি এখন প্রশাসনের গলার কাঁটায় পরিণত হয়েছে। এ প্রকল্প বিভিন্ন অনিয়মের মধ্য দিয়ে সম্পন্ন করা হয়েছে বলে সঠিক তদন্তের দাবী জানিয়েছে স্থানীয় এলাকাবাসী ও সচেতনমহল।

প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র জানায়, আশ্রয়ণ প্রকল্প (ফেস ২)-এর অধীনে সরিষাবাড়ী উপজেলায় ২০২০-২১ অর্থবছরে ১ম পর্যায়ে ২৯৫টি ঘর বরাদ্দ হয়। প্রতিটি ঘরের নির্মাণ ব্যয় ধরা হয় একলাখ ৭১ হাজার টাকা। ২য় পর্যায়ে প্রতিটি একলাখ ৯০ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মিত হয় ২৫টি ঘর৷ সর্বশেষ ২০২১-২২ অর্থবছরে প্রতিটি দুইলাখ ৫৯ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয় আরও তিনটি ঘর। সর্বমোট ৩২৩টি ঘর নির্মাণ সম্পন্ন ও উদ্বোধনের পর উপকারভোগীদের হাতে দলিল হস্তান্তর দেখানো হলেও বাস্তবে মিলেছে এর উল্টো চিত্র। যমুনা নদীঘেঁষা দুর্গম এলাকা ঘুইঞ্চার চরে নির্মিত ১৪৬টি ঘর নির্মাণে দুই কোটি ৪৯ লাখ ৬৬ হাজার টাকার পুরোটাই জলে গেছে।

সরেজমিন পরিদর্শনে গিয়ে দেখা যায়, দুইটি নদী পার হয়ে এবং প্রায় পাঁচ কিলোমিটার পায়ে হেঁটে যেতে হয় ঘুইঞ্চার চর আশ্রয়ণ প্রকল্পে। যাতায়াতের রাস্তা বলতে ক্ষেতের সরু আইল। আশেপাশে নেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাট-বাজার, এমনকি কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা। সন্ধ্যা নামলেই পুরো এলাকায় গা ছমছমে পরিবেশ। ১৪৬টি ঘরের মধ্যে মাত্র ১৫-১৬টি ঘরের উপকারভোগীর সন্ধান পাওয়া গেছে। বাকি ঘরুগুলোতে তালা ঝুলছে। বেশ কয়েকটি ঘরের দেয়ালে ফাটল ধরেছে। টিনের চালে ক্রুর বদলে তারকাঁটা ব্যবহার করায় বৃষ্টির পানি পড়ে চুইয়ে। প্রধানমন্ত্রীর উপহার লেখা সম্বলিত সাইনবোর্ডগুলো টানানো হয়নি কোনো ঘরেই, একটি ঘরের মেঝেতে সেগুলো অযত্নে পড়ে থাকতে দেখা যায়। একটি ঘর ছয়মাস আগে ঝরে ভেঙে পাশের খাদে পড়ে থাকলেও সেটি উদ্ধার করতে এগিয়ে যায়নি কর্তৃপক্ষ। সুবিধাভোগীদের মতে, আশ্রয়ণ প্রকল্পটি ফাঁকা পড়ে থাকায় শুধুমাত্র স্থানীয় কৃষকদের ক্লান্তি দূর করতে বিশ্রামের স্থান হিসেবেই ব্যবহৃত হচ্ছে। অধিকাংশ ঘরের বারান্দায় চরাঞ্চলের মানুষ দিনে গরু-ছাগল বেঁধে রাখেন। আগাছায় ভরে গেছে অনেক ঘরের সামনে।

সত্তরোর্ধ বৃদ্ধ মফিজ উদ্দিন জানান, তিনি ঘর পেয়ে তারাকান্দি থেকে বড় আশা নিয়ে এখানে এসেছেন। অথচ এখানে ছাগল-গরু পর্যন্ত চরানোর পরিবেশ নাই। যাতায়াতের রাস্তা না থাকায় এলাকায় কোনো ব্যবসা-বাণিজ্য করার সুযোগ নাই। কর্মহীন থাকতে হয়, বিধায় তাদের কষ্টে জীবনযাপন করতে হচ্ছে।

উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, আশ্রয়ন প্রকল্পের নামে উপজেলার মোট ৩৭টি অগভীর নলকূপ স্থাপন করা হয়েছে। এরমধ্যে ঘুইঞ্চার চরে ১৫র্টি স্থাপন করা হয়েছে। প্রতিটি নলকূপের খরচ পড়েছে প্রায় ২৫ হাজার টাকা করে। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতিটি নলকূপের গভীরতা ৬১ মিটার, ফলে পানিতে আয়রন থাকলেও কিছু করণীয় নেই। এছাড়া মালিকানা হস্তান্তর করার পর চুরি প্রতিরোধে উপকারভোগীদেরই সজাগ থাকতে হবে বলেও তিনি জানান।
এদিকে ঘর ছেড়ে লোকজন চলে যাওয়ায় বিল বকেয়া পড়ছে পল্লীবিদ্যুত সমিতির। লোক না থাকলেও মিটার থাকায় মাসে মাসে বিল ধার্য্য হচ্ছে প্রতিটি হিসাব নম্বরের বিপরীতে। বিলের কপি পড়ে থাকছে ঘরগুলোর দরজার ফাঁকে।
জানতে চাইলে সরিষাবাড়ী প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা হুমায়ুন কবীর জানান, আপনারা সবই তো জানেন, আশ্রয়ণ প্রকল্পের কাজ কীভাবে, কে করেছে! শুধু শুধু নিউজ করিয়েন না। নিউজ করলে পিআইও অফিস চাপে থাকে।
আশ্রয়ণ প্রকল্পের এমন বেহাল দশা নিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার উপমা ফারিসা বলেন, আমি যোগদানের আগে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরগুলো করা হয়েছে। শুরুতে ঘর নেওয়ার জন্য অনেকের আগ্রহ ছিলো বলে শুনেছি। ঘুইঞ্চার চরের ঘরগুলোতে বসবাসের উপযোগী করতে প্রশাসন চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি
Design & Developed BY SheraWeb.Com