বুধবার, ০১ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, ০৩:৩৯ অপরাহ্ন

প্রতিনিধি নিয়োগ-
ঢাকা সহ সারাদেশের প্রতিটি জেলা, উপজেলা, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে সংবাদদাতা নিয়োগ করা হবে। আগ্রহী প্রার্থীরা dailyalochitosokal@gmail.com এ সিভি প্রেরণ করার জন্য অনুরোধ করছি।
শিরোনাম:
রাজাকারের পুত্র মাসুম কামরাবাদে নৌকা প্রতিকের মনোনয়ন প্রত্যাশী

রাজাকারের পুত্র মাসুম কামরাবাদে নৌকা প্রতিকের মনোনয়ন প্রত্যাশী

স্টাফ রিপোর্টার-সরিষাবাড়ী উপজেলায় রাজাকারের পুত্র মাসুম চেয়ারম্যান কামরাবাদ ইউনিয়নের নৌকা প্রতিকের মনোনয়ন প্রত্যাশী হয়েছেন । তার পিতা মহর উদ্দিন আহমেদ ১৯৭১ সালে সরিষাবাড়ী উপজেলা শান্তি কমিটির সহ-সভাপতি ও তার শিমলা বাজারস্থ বাড়ী পাক বাহিনীর ঘাটি ছিল বলে দাবী করেছে মুক্তিযোদ্ধারা। তার স্ত্রী আসমা রহমান ২০১২ সালে ৩০ ডিসেম্বর শহর বিএনপির কার্যকরী কমিটির মহিলা বিষয়ক সম্পাদক হয়। ২০১৫ সালে লুৎফর রহমান মাছুম চেয়ারম্যান সরিষাবাড়ী উপজেলা বিএনপির উপদেষ্টা পরিষদের সম্মানিত উপদেষ্টা পদ পান।এরপর থেকে বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় তিনি।রাজাকারের পুত্র,আওয়ামীলীগে অনুপ্রবেশকারী আওয়ামীলীগের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ ও জমা প্রদান করায় স্থানীয় ভোটার ও আওয়ামীলীগ এবং মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলা জুড়ে শুরু হয়েছে নানা সমালোচনা ।
গতকাল রবিবার কামরাবাদ ইউনিয়ন ঘুড়ে জানা গেছে, ১৯৭১ সালে দেশে যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে শান্তি কমিটির উপজেলা সহ-সভাপতি পদে দায়িত্ব পাওয়ার পর মহর উদ্দিন আহমেদের বাড়ীতে হয় পাক বাহিনীর ঘাটি। মহরের নির্দেশে মুক্তিগামী , জনতা, সংখ্যালঘু , মুক্তিযোদ্ধাদের বাড়ীতে অগ্নি সংযোগ , লুটপাট সহ মা-বোনদের ইজ্জত নিয়ে হত্যা করে জমি দখল করা হয়েছিল। ১৯৭১ সালে দেশ স্বাধীন হলে তিনি আত্মগোপন করেন। পরবর্তীতে জেনারেল জিয়া ক্ষমতায় আসলে বিএনপিতে যোগ দিয়ে আবারো চালায় এলাকাতে তান্ডব। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে চালায় নানা কুটুক্তি । সে সময়ের ইতিহাস গুলো এখনো ভুলে যায়নি সাধারণ মানুষ ও মুক্তিযোদ্ধারা । তার ছেলে লুৎফর রহমান মাসুম চেয়ারম্যান বিএনপির প্রথম সারির নেতাদের আর্শীবাদ থাকায় এলাকায় শুরু করে নানা অপকর্ম। ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর তার দাপটে স্থানীয় এলাকাবাসী অসহায় হয়ে পড়ে। নিজেকে রাজাকারের পুত্র হিসেবে বিএনপির খাটি কর্মী হিসেবে আত্ম প্রকাশ করেন।বিএনপির মনোনিত প্রার্থী হয়ে ছাতা মার্কা পেয়ে কেন্দ্র দখল করে কামরাবাদ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়। তার নেতৃত্বে চলে সংখ্যালঘু সহ অনেক মরহুম মুক্তিযোদ্ধাদের জমি দখল। বিভিন্ন আওয়ামীলীগ নেতাকর্মীদের বাড়ীতে ভাংচুর , মামলা,হামলা , লুটপাট অব্যাহত রাখেন। পরে জরুরী আইন আসলে দুর্নীতির দায়ে পালিয়ে থাকেন । ২০০৮ সালে আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় আসলে দীর্ঘদিন পালিয়ে থাকলেও তার স্ত্রী আসমা রহমান ২০১২ সালে ৩০ ডিসেম্বর শহর বিএনপির কার্যকরী কমিটির মহিলা বিষয়ক সম্পাদক পদ পায়। তারপর এলাকায় এসে বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় ভুমিকা রাখায় ২০১৫ সালে লুৎফর রহমান মাছুম সরিষাবাড়ী উপজেলা বিএনপির উপদেষ্টা পরিষদের সম্মানিত উপদেষ্টা পদ পেয়ে রাখেন গুরুত্বপুর্ন ভুমিকা । ২০১৪ সালে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বীর মুক্তিযোদ্ধা এম এ লতিফের স্ত্রী উপজেলা মহিলা আওয়ামীলীগের সভাপতি জহুরা লতিফ এর সাথে প্রতিদ্বন্দিতা করে লুৎফর রহমান মাছুম এর স্ত্রী বিএনপি নেত্রী আসমা রহমান বিপুল ভোটে পরাজিত হয় । পরে ২০১৮ সালের এপ্রিলে আওয়ামীলীগে যোগ দেন সাবেক চেয়ারম্যান লুৎফর রহমান মাছুম ।
এলাকাবাসীর অভিযোগ,তার পিতা মহর উদ্দিন ছিলেন রাজাকার।বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর মাছুমের নেতৃত্বে আওয়ামী পরিবারের প্রতি চালিয়েছে অনেক নির্যাতন। পুলিশ দিয়ে হয়রানি,মিথ্যা মামলায় ফাসানো সহ করেছে জমি দখল। ইতিপুর্বে জননেত্রী শেখ হাসিনাকে কুটুক্তি ছাড়াও বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে মুত্র ত্যাগ করে। এবার জামালপুর জেলা আওয়ামীলীগের দলীয় কার্যালয় থেকে মনোনয়ন ফরম কিনে জমা দিয়ে এলাকায় প্রচার করছে তাকে কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের উচ্চ পদের কয়েকজন তাকে মনোনয়ন দিয়েছে।এগুলো প্রচার করে আওয়ামীলীগের চরম ভাবমুর্তি ক্ষুন্ন করছে।তার এমন অপপ্রচার ও তাকে মনোনয়ন না দিতে সরিষাবাড়ী উপজেলা আওয়ামীলীগ, জামালপুর জেলা আওয়ামীলীগ এবং কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর আমার জমিসহ অনেক সংখ্যালঘুদের জমি দখল করেছে। এখনো তার দখলেই আছে ।
কথা হলে সরিষাবাড়ী উপজেলা আওয়ামীলীগের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক ও সরিষাবাড়ী মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের সাবেক কমান্ডার মোফাজ্জল হোসেন সত্যতা স্বীকার করে বলেন,দেশে যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে শান্তি কমিটির উপজেলা সহ-সভাপতি ছিলেন মহর উদ্দিন আহমেদ। এটা শধু আমি না, রাজনৈতিক অনেক নেতাকর্মীরাও জানে।
এদিকে সরিষাবাড়ী উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি, যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে বিএলএফ কমান্ডার এম এ লতিফ বলেন,দেশে যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে শান্তি কমিটির উপজেলা সহ-সভাপতি মহর উদ্দিন আহমেদ মুক্তিযোদ্ধাদের বাড়ীতে হামলা ,হিন্দুদের বসত বাড়ীতে লুটপাট সহ অনেক অপকর্ম করেছে । শিমলা বাজার তার বাড়ী হতে পাক বাহিনীর ক্যাম্প পরিচালিত হত । অনেক মুক্তিযোদ্ধাকে তুলে নিয়ে নির্যাতন করে হত্যা করে। নারীদেরকে তুলে নিয়ে ইজ্জত লুন্ঠন করে।
এ বিষয়ে সরিষাবাড়ী উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ছানোয়ার হোসেন বাদশা বলেন, অনুপ্রবেশকারী ও রাজাকার পুত্রদের ব্যাপারে সরিষাবাড়ী উপজেলা আওয়ামীলীগ ও জামালপুর জেলা আওয়ামীলীগ এবং কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগ সচেতন রয়েছে। মনোনয়ন যারাই কিনেছে তাদের মধ্যে অনুপ্রবেশকারী ও রাজাকার পুত্রদের ব্যাপারে আমাদের দল মনোনয়ন না পাওয়া থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করিবে।

শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি
Design & Developed BY SheraWeb.Com