বুধবার, ৩০ নভেম্বর ২০২২, ০২:৩০ অপরাহ্ন

প্রতিনিধি নিয়োগ-
ঢাকা সহ সারাদেশের প্রতিটি জেলা, উপজেলা, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে সংবাদদাতা নিয়োগ করা হবে। আগ্রহী প্রার্থীরা dailyalochitosokal@gmail.com এ সিভি প্রেরণ করে ০১৭১৫৫০৫২৪৪ নাম্বারে যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ করছি।
শিরোনাম:
সাংবাদিক বাহাউদ্দীন তালুকদারের জন্মদিনে বিভিন্ন মহলের শুভেচ্ছা জামালপুরে ইয়াবা উদ্ধারের চাঞ্চল্যকর মামলার যুক্তিতর্ক চলছে পরিকল্পনার অভাবে জলে যেতে বসেছে সরকারের কোটি কোটি টাকা রূপগঞ্জে মূর্তিমান আতংক ভূমিদস্যু ফয়েজ বাহিনীর খুঁটির জোর কোথায়? সরিষাবাড়ীতে ২ বছরের সাজাপ্রাপ্ত আসামী গ্রেফতার  আলফাডাঙ্গা সদর ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী আশিকের আলোচনা সভা ‘দুঃখিনী মায়ের গল্প’ গানে ব্যাপক সাড়া পাচ্ছে রোজিনা  আলফাডাঙ্গায় মুক্তিযোদ্ধার বাড়ি, দোকান, ভাংচুর স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ টাকা লুটপাট : থানায় মামলা বুড়াইচ ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত‍্যাশী চেয়ারম্যান প্রার্থী আহসানউদ্দৌলা রানা’র উঠান বৈঠক বিএনপি-জামায়াতের নৈরাজ্যের প্রতিবাদে আলফাডাঙ্গায় বিক্ষোভ
সাতপোয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবু তাহেরের পরিবারের নামে সরকারী বরাদ্দ 

সাতপোয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবু তাহেরের পরিবারের নামে সরকারী বরাদ্দ 

নিজস্ব প্রতিবেদক – জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার সাতপোয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবু তাহের আবারো মনোনয়ন প্রত্যাশী হয়েছেন। তিনি গত ৭ এপ্রিল মনোনয়ন কিনে জামালপুর জেলা আওয়ামীলীগের কার্যালয়ে জমা প্রদান করেছেন। সাতপোয়া ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান আবু তাহের ২০১৫ সালে নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে সরকারি নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে নিজের ইচ্ছামত অফিস পরিচালনা, ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে সরকারি বরাদ্দে ঘর, ১৮-১৯ অর্থ বছরে তার পরিবারের সদস্য তাহমিনা আক্তার সহ কয়েকজনের নাম ব্যবহার করে উত্তোলন করেছে সরকারী টিন । সরকারী বরাদ্দে তার পরিবারের সদস্যদের নাম থাকায় ইউনিয়ন জুড়ে শুরু হয়েছে নানা সমালোচনা। ২য় বারের মতো তাকে মনোনয়ন না দিতে সরিষাবাড়ী উপজেলা আওয়ামীলীগ, জামালপুর জেলা আওয়ামীলীগ এবং কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ইউনিয়নবাসী ও সচেতন মহল ।
এদিকে তথ্য পাওয়া যায়,পাচ বছরের এলজিএসপি প্রকল্পের সকল কাজ চেয়ারম্যান আবু তাহের নিজেই ভুয়া ভাউচারে বাস্তবায়ন করেছেন। কাজ শতভাগ দেখানো হলেও বাস্তবতায় জনদুর্ভোগ কাটেনি। ফলে বর্তমান সরকারের গৃহীত উন্নয়ন প্রকল্প কাগজ কলমে বাস্তবায়ন দেখানো হলেও কার্যত সুফল পায়নি সাধারণ জনগণ। ২০১৬-১৭,১৭-১৮,১৮-১৯,১৯-২০,২০-২১ অর্থ বছরে ১ম ও ২য় পর্যায়ে টিআর, কাবিখা, এডিপি ও নন-ওয়েজ প্রকল্পে প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন দেখিয়ে হাতিয়ে নেন লাখ লাখ টাকা। ইদের সময় ১০ কেজি চাল এর জায়গায় ৮ কেজি বিতরন,সৌরবিদ্যুৎ, ভিজিডি, ভিজিএফ, টিউবওয়েল বিতরণ, কৃষি প্রণোদনা ও সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর বিভিন্ন ভাতা প্রদানের একক সিদ্ধান্তে অর্থের বিনিময় ও স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে স্বচ্ছল পরিবারের মধ্যে বিতরণ করেন। তার স্ত্রী ও মেয়ের নামেও রয়েছে সরকারী অনুদান। ফলে ইউনিয়নের প্রকৃত সুফল ভোগী ও দুস্থতা বঞ্চিত হচ্ছেন। প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়নে এবং প্রতি মাসে সভা ও রেজুলেশনের নিয়ম থাকলেও গত সাড়ে চার বছরে কোনো সভা বা রেজুলেশন হয়নি বলেও গোপন সুত্রে জানা গেছে। দীর্ঘ ৫ বছরে উন্নয়নের তালিকা ও তার অপকর্ম গুলো প্রশাসনের নিকট সুষ্ঠ তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ইউনিয়নের সাধারণ ভোটাররা।
চর ছাতারিয়া গ্রামের সুমন বলেন, চেয়ারম্যান একবার নির্বাচিত হওয়ার পর স্বজনপ্রীতিসহ নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির, নামে বে-নামে প্রকল্প দেখিয়ে ভুয়া ভাউচারে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করছেন। তার বিভিন্ন অপকর্মে ইউনিয়ন জুড়ে শুরু হয়েছে নানা সমালোচনা । মাসিক সভা না করে এলজিএসপির বরাদ্দের পুরো টাকা তিনি আত্মসাৎ করেন। দুস্থ সুবিধা ভোগীদের কাছে নানা কৌশলে বসতবাড়ি কর আদায় করে নিজে আত্মসাৎ করেন ইউপি চেয়ারম্যান আবু তাহের। রাস্তায় মাটি কাটা হয় না।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ইউনিয়ন পরিষদের ওয়ার্ড সদস্য বলেন, চেয়ারম্যানের নিজের গড়া নিয়মে চলছে ইউনিয়ন পরিষদ। রেজুলেশন তলব করলে থলের বিড়াল বেড়িয়ে আসবে। নিজের ইচ্ছামতো প্রকল্প দিয়ে ভুয়া ভাউচারে সরকারি লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ করে আঙুল ফুলে কলাগাছ বনে গেছেন চেয়ারম্যান আবু তাহের। নির্বাচন কালীন সময়ে সম্পদের বিবরণ ও বর্তমান সম্পদ দেখলেই বোঝা যাবে তার দুর্নীতির চিত্র। তার স্ত্রী ও মেয়ের নামেও তালিকায় নাম দিয়ে টিন সংগ্রহ করেছেন। সুষ্ঠ তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি। এ বিষয়ে সাতপোয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবু তাহের কথা বলতে রাজী হয়নি।
কথা হলে সরিষাবাড়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার শিহাব উদ্দিন জানান, বিষয়টি আপনি পিআইও কে জানান। আমি বলে দিচ্ছি।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) হুমায়ুন কবীর বলেন, আমি খোজ খবর নিচ্ছি। তার পরিবারের নামে সরকারি বরাদ্দ থাকলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি
Design & Developed BY SheraWeb.Com