বুধবার, ০৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, ১১:৩০ অপরাহ্ন

প্রতিনিধি নিয়োগ-
ঢাকা সহ সারাদেশের প্রতিটি জেলা, উপজেলা, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে সংবাদদাতা নিয়োগ করা হবে। আগ্রহী প্রার্থীরা dailyalochitosokal@gmail.com এ সিভি প্রেরণ করার জন্য অনুরোধ করছি।
৪২ বোতল ফেনসিডিল সহ আটককৃত সেই সালাম কামরাবাদ ইউনিয়নের নৌকার প্রার্থী

৪২ বোতল ফেনসিডিল সহ আটককৃত সেই সালাম কামরাবাদ ইউনিয়নের নৌকার প্রার্থী

জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে সুদারু ও মাদক ব্যবসায়ী,আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশকারী আব্দুস সালাম আওয়ামীলীগ থেকে কামরাবাদ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মনোনয়ন পেয়েছেন ।  এ নিয়ে স্থানীয় এলাকাবাসী ও সচেতন মহল এবং আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে  ক্ষোভ  ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।এ ছাড়াও নির্বাচনের হলফনামায় তার ওপর হওয়া মাদক মামলাটি উল্লেখ রয়েছে কিনা এমন প্রশ্ন উঠে স্থানীয় সচেতন মহলদের মধ্যে।
জানা যায়, ১৯৮৭ সালে জাতীয় পার্টির ছাত্র সংগঠন জাতীয় ছাত্র সমাজ থেকে হারুন – সালাম পরিষদে জিএস প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে জোর করে ভোট নিয়ে জিএস নির্বাচিত হয়  শুয়াকৈর গ্রামের মরহুম মনির উদ্দিনের পুত্র আব্দুস সালাম। এর পর এলাকায় তার গুন্ডামী, মাস্তানি, চাঁদাবাজি ব্যাপকহারে বৃদ্ধি পায়। সে সময়ে আওয়ামী লীগের নেতা- কর্মীদের জীবন জীবিকা, স্বাভাবিক চলাফেরা ছালাম জিএস এর জন্য মারাত্মক হুমকির মুখে ছিল। এরশাদ বিরোধী আন্দোলন – সংগ্রামে  অংশ গ্রহণকারী আওয়ামী, যুবলীগ  ছাত্রলীগের নেতাকর্মী দের শারীরিক ও মানসিক ভাবে নির্যাতন, পুলিশ দিয়ে হয়রানী করার ইতিহাস এখনো মানুষ ভুলে যায়নি। ১৯৯১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর জননেত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে বিভিন্ন সমালোচনা করেন ।  ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসার পর আঞ্চলিকতার অজুহাতে যুবলীগের রাজনীতিতে অনুপ্রবেশ  করে। সাবেক এমপি উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সভাপতি মরহুম আব্দুল মালেক সাহেরের ভাতিজা মিজানুর রহমান মিজু যুবলীগের সভাপতি প্রার্থী হলে, তাকে ভয় ভীতি দেখিয়ে সন্মেলন স্হলে যেতে না দিয়ে ছালাম উপজেলা যুবলীগের সভাপতি হয়ে যায়। তার ভাই সুলতান সরিষাবাড়ী কলেজের এজিএস পদ পায়। দুই ভাইয়ের পুরনো রুপে আবির্ভূত হয়। আবারো সন্ত্রাস, চাদাবাজি, টেন্ডারবাজি, সরকারি জমি দখল,সুদে টাকা লাগানো, শালিশ দরবারের নামে ঘুষ নিয়ে সিদ্ধান্ত এক পক্ষে মানতে বাধ্য করা। সুদে টাকা আদায়ের জন্য ১৯৯৭ সালে একই গ্রামের মৃত ময়েজ মন্ডলের ছেলে মৃত নুরুল ইসলামকে গলায় গামছা বেধে গ্রামের মাঝে ঘুড়ানোর পাশাপাশি মারধর করার প্রতিবাদ করায় তার ভাই আওয়ামী পরিবারের সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধা মৃত আলতাফ হোসেনকেও একই রকম শাস্তি ভোগ করতে হয়।২০০১ সালে বিএনপি  ক্ষমতায় আসলে  ইউনিয়ন যুবদল নেতা সাইফুল ইসলামকে বিএনপিতে যোগ দেওয়ার প্রস্তাব দিয়ে তার ভাই সুলতানের সহযোগিতায়  সালাম এরপর এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করে চালিয়ে যায় রমরমা মাদক ও সুদের ব্যবসা।  পরে জরুরী আইন আসলে তিনি এলাকা ছেড়ে পালিয়ে বেড়ান। ২০০৮ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর আবার এলাকায় উপস্থিত হয়ে চরমভাবে মাদক ব্যবসায় জড়িত হয়।  ২০১১ সালে বাউশী এসকে এন্টার প্রাইজের সামনে থেকে ৪২ বোতল ভারতীয় ফেনসিডিল  সহ আঃ সালামকে গ্রেফতার করে জামালপুর র‍্যাব।  র‍্যাবের ডিএডি মিজানুর রহমান বাদী  হয়ে শিমলা পল্লী সামারু চন্দ্র দাসের ছেলে শ্রী লক্ষন দাস কালু, শুয়াকৈর গ্রামের মনির উদ্দিনের ছেলে আঃ সালাম এর বিরুদ্ধে ধারা-২৫-B ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনে সরিষাবাড়ী থানায় মামলা দায়ের করে।  মামলা নং-৮ তারিখ,১৯-২-২০১১,। এই ঘটনায় যুবলীগের সভাপতি ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সদস্য পদ থেকে বহিষ্কার হয়। দীর্ঘদিন জেল হাজত বাস করে জামিনে এসে কিছুদিন মাদক ব্যবসা বন্ধ রাখলেও সুদের ব্যবসা চালিয়েছে প্রতিনিয়ত। বিএনপির জালাও পোড়াও আন্দোলনের সময় নীরব ভুমিকা পালন করলেও বিভিন্ন নেতার দোয়া থাকায় পদ পায় সরিষাবাড়ী উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক।

শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি
Design & Developed BY SheraWeb.Com